যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ও সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ওমান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতেও অভিযান চালানোর দাবি করেছে ইরান। তবে আক্রান্ত দেশগুলোর কয়েকটি জানিয়েছে, তারা সফলভাবে এসব হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
আইআরজিসি ও ইরানের সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক তৎপরতা এবং সর্বশেষ হামলার জবাব হিসেবেই এই পাল্টা অভিযান চালানো হয়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযানের তৃতীয় ধাপ।
ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কথিত আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (১২ জুলাই) ওমানের দুকম বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরির জন্য ব্যবহৃত লজিস্টিক সহায়তা কেন্দ্র ও জ্বালানি সরবরাহ স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে আইআরজিসি জানিয়েছে, এসব স্থাপনা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়া কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাতেও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী। কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গোলাবারুদ গুদাম ও রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বাহরাইনে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও রাডার স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির আরেক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র ও কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস করা হয়েছে। একইভাবে জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন স্থাপনাতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান।
এ ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে নিয়ম লঙ্ঘনকারী একটি জাহাজে হামলা চালিয়ে সেটিকে থামিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে আইআরজিসি।
হামলার পর উপসাগরীয় দেশগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে অবস্থানের আহ্বান জানিয়েছে। রোববার সকালে দেশটিতে দ্বিতীয়বারের মতো হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয়।
অন্যদিকে কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, আকাশসীমায় প্রবেশ করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার কারণে বিভিন্ন স্থানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন