সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। কখনো ঝিরিঝিরি, আবার কখনো ভারী বৃষ্টির মধ্যে স্বল্প বিরতিও দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, গত ৫ জুলাই থেকে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবেই এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
সোমবারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এতে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে, কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তা ভারী এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে অতি ভারী বর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
রোববার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৭ ঘণ্টায় ঢাকায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ৯৭ মিলিমিটার।
আবহাওয়া পরিস্থিতির তথ্যে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের প্রবণতা তুলনামূলক কম থাকতে পারে। তবে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ১৬ জুলাই থেকে বৃষ্টির প্রবণতা আবার বাড়তে পারে।
তিনি জানান, গত কয়েক দিনে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ২০০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ওই অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বৃষ্টির বলয় লক্ষ্মীপুর, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনীর দিকে অগ্রসর হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টির প্রবণতা কমেছে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সুনামগঞ্জ, সিলেট ও নেত্রকোণায় সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নেত্রকোণার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে।
আরও কয়েকটি পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে। আগামী দুই দিনে সিলেট ও সুনামগঞ্জে সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় উজানের ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল ইসলাম শোভন জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের যাদুকাটা এবং ভূগাই-কংস নদীর পানি বেড়েছে। একই সময়ে রংপুর বিভাগের তিস্তা নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে।
আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী এবং ভূগাই-কংস নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
একই সময়ে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামে তিস্তা নদী ও দুধকুমার নদের পানি বেড়ে কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া গাইবান্ধায় তিস্তা নদী এবং কুড়িগ্রামে ধরলা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। তবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন মাহমুদুল ইসলাম শোভন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন