দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আহ্বানে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের সমর্থনে মুম্বাইয়েও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। টানা তৃতীয় দিনের মতো শিবাজী পার্ক, চেম্বুর ও আজাদ ময়দানে শিক্ষার্থী এবং অধিকারকর্মীরা কর্মসূচি পালন করছেন।
তবে আন্দোলনকারীদের রাজপথে নামা ঠেকাতে মুম্বাই পুলিশ ডিজিটাল নজরদারিসহ বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রাত ৩টার দিকে হোয়াটসঅ্যাপে আইনি নোটিশ পাঠানো এবং আন্দোলনকারীদের বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদের ওপর চাপ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগে যাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছিল কিংবা নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, স্থানীয় থানাগুলো থেকে ফোন ও বার্তার মাধ্যমে তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি স্ক্রিনশটে দেখা গেছে, ভার্সোভা থানার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীকে বাড়িতে অবস্থান করতে এবং তা নিশ্চিত করতে হোয়াটসঅ্যাপে সার্বক্ষণিক ‘লাইভ লোকেশন’ শেয়ার করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ছাড়া ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ৩৫(৩) ধারায় ডিজিটাল বার্তার মাধ্যমে ভোররাতে হাজিরার নির্দেশ পাঠানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন মানবাধিকার আইনজীবীরা।
ডিজিটাল নজরদারির পাশাপাশি ইউনিফর্ম পরা পুলিশ সদস্যরা আন্দোলনকারী তরুণদের বাড়িতে যাচ্ছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তদন্তের কথা বলে পরিবারের সদস্যদের সামনে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখানো হচ্ছে।
একই সঙ্গে মেট্রো ও গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করে আন্দোলনস্থলের দিকে যাওয়া শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন।
পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য আইনি পরিণতি সম্পর্কে সচেতন করতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ফৌজদারি মামলা হলে ভবিষ্যতে পাসপোর্ট, উচ্চশিক্ষা কিংবা চাকরির ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে-এমন পরিস্থিতি থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষাই তাদের উদ্দেশ্য।
তবে আইনজীবী ও অধিকারকর্মীরা পুলিশের এ ধরনের পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক এবং মৌলিক স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, আন্দোলনকারীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন চাওয়া ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
সূত্র: এনডিটিভি
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন