ইরানজুড়ে চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারপন্থী বিক্ষোভে নেমেছেন বহু মানুষ। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ইরানিদের একটি বড় অংশের দাবি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ না হলে যুদ্ধবিরতি বা সংঘাত থামানোর কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
তবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ। তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় সোমবার রাতভর বড় বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলার কারণে রাজধানীর কিছু এলাকায় ফের বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। রাজধানীর পশ্চিমাঞ্চলসংলগ্ন এলাকাসহ ইসফাহানের একাধিক শহরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইসফাহান ভারী বোমাবর্ষণের মধ্যে রয়েছে।
এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএসএনএর খবরে বলা হয়েছে, মধ্য ইরানের মারকাজি প্রদেশের মাহাল্লাত শহরে রাতের হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং আরও ১৫ জন আহত হয়েছেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, শহরের তিনটি আবাসিক ইউনিটে সরাসরি প্রজেক্টাইল আঘাত হানে, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
অন্যদিকে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষে আরও ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফিলিস্তিনের রামাল্লাহ থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, খুব কাছ থেকে, প্রায় মুখোমুখি অবস্থানে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে চলমান লড়াইয়ে সর্বশেষ দফায় মোট ১০ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে ইসরায়েলের এই সামরিক অভিযানের যৌক্তিকতা নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে। ইসরায়েল সরকার দক্ষিণ লেবাননে স্থায়ী সামরিক অবস্থান গড়ে তোলার কথা বললেও, প্রতিটি সেনা হতাহতের ঘোষণাই দেশটির জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে।
পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, আকাশশক্তি, আধুনিক প্রযুক্তি ও অস্ত্রের দিক থেকে ইসরায়েল এগিয়ে থাকলেও দক্ষিণ লেবাননের ভূপ্রকৃতি তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে সেখানে আরও সেনা মোতায়েন ও অধিক এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি উঠছে। তবে আরেকটি পক্ষ বলছে, অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন বা নতুন এলাকা দখল করলেই হিজবুল্লাহর হুমকি শেষ হবে না। কারণ, সংগঠনটির কাছে থাকা অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র, স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার রকেট এখনো ইসরায়েলের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে রয়েছে। এর কিছু হামলা মধ্য ইসরায়েল, এমনকি জেরুজালেমের কাছাকাছি এলাকাতেও পৌঁছেছে।
এরই মধ্যে দক্ষিণ লেবাননের জাহরানি নদীর দক্ষিণে বসবাসকারীদের উদ্দেশে নতুন ‘জরুরি সতর্কতা’ জারি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র আভিখাই আদরাই বাসিন্দাদের অবিলম্বে নদীর উত্তরে সরে যেতে বলেছেন। তার ভাষ্য, ওই এলাকায় অবস্থান করলে বাসিন্দা ও তাদের পরিবারের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
ইসরায়েল দাবি করেছে, জাহরানি নদীর দক্ষিণের এলাকাগুলোতে বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং সেখানে তাদের স্থলবাহিনী ‘উল্লেখযোগ্য শক্তি’ নিয়ে অভিযান চালাচ্ছে। মার্চের শুরু থেকে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ উত্তেজনা নতুন করে বাড়ার পর দক্ষিণ লেবানন এবং বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠে বেসামরিক লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার একের পর এক হুমকি দিয়ে আসছে তেলআবিব।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার আওতা লিতানি নদী থেকে জাহরানি নদীরও উত্তরের কিছু এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, যা ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তর পর্যন্ত পৌঁছেছে। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, এসব নির্দেশ লেবাননের ১ হাজার ৪৭০ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি এলাকা অর্থাৎ দেশটির প্রায় ১৪ শতাংশ ভূখণ্ড এবং ১০০টির বেশি শহর ও গ্রামকে প্রভাবিত করছে।
একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি স্থলবাহিনীর উপস্থিতিও জোরদার করা হচ্ছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এর লক্ষ্য সেখানে একটি ‘বাফার জোন’ বা নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা।
তথ্য ও ছবি ঃ আল জাজিরা
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন