ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলার মধ্যেই ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত অক্টোবরে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে গাজায় বিভিন্ন হামলায় এখন পর্যন্ত এক হাজার পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য সংস্থা মেডিক্যাল এইড ফর প্যালেস্টানিয়ানসের গাজাবিষয়ক পরিচালক ফিকর শালতুত বলেন, গাজা আরেকটি মর্মান্তিক মাইলফলকে পৌঁছেছে। হাজার হাজার মানুষকে বলা হয়েছিল, সবচেয়ে কঠিন সময় পেরিয়ে গেছে; কিন্তু তারা এখনো প্রিয়জনদের দাফন করছেন।
যুদ্ধবিরতি গাজায় বড় পরিসরের লড়াই থামালেও পরবর্তী ধাপে যাওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষ এখনো চূড়ান্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। ওই ধাপে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণের বিষয় ছিল।
অক্টোবরের পর থেকে বিভিন্ন সময় গাজা উপত্যকায় সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে ইসরায়েল। বিভিন্ন এলাকায় হামলাও চালানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে গাজা উপত্যকার প্রায় ৬৪ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হুসাম বদরান আল-জাজিরাকে বলেন, হামাস এখনই অস্ত্র সমর্পণ করবে না। অন্য ফিলিস্তিনি দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর অস্ত্রভান্ডারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হবে।
চলমান যুদ্ধবিরতি গাজার ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি করবে বলেও আশা করা হয়েছিল। তবে জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিসের (ওসিএইচএ) তথ্য অনুযায়ী, গাজা উপত্যকার ৩৭টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ২০টি আংশিকভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে। বর্তমানে সেখানে কোনো হাসপাতালই পূর্ণাঙ্গভাবে সেবা দেওয়ার অবস্থায় নেই।
গাজার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর গাজায় সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করে ইসরায়েল। এরপর থেকে উপত্যকাটিতে ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গাজার বেশির ভাগ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং প্রায় ১৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন