তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সরকার জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এর সবকিছুই জাতীয় সংসদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে। সংসদের বাইরে গিয়ে তা বাস্তবায়নের কোনো সুযোগ নেই।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষরের সঙ্গে শহীদদের রক্তের বন্ধন রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন তখনই হবে, যখন জাতীয় সংসদকে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা যাবে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিতর্ক, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে জাতীয় সংসদ। বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রে সংসদই সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্র হওয়া উচিত।
জহির উদ্দিন স্বপন অভিযোগ করেন, রাজনীতিকে কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে ও রাজপথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাধারণ মূল্যবোধের বাইরে গিয়ে অশ্লীলতা ও চক্রান্তের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে, যা শুভ লক্ষণ নয়।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির ধারা বজায় রাখতে বিএনপি সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা চায়। শহীদদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে, যখন সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রেখে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের ৫৫ বছর পরও ভোটাধিকারের জন্য প্রাণ দিতে হওয়া একই সঙ্গে লজ্জা ও আত্মসমালোচনার বিষয়। তবে বহু ত্যাগ ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অর্জিত ভোটাধিকারের ভিত্তিতে জনগণ তাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে। বর্তমানে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জাতীয় সংসদ পরিচালনা করছে।
তিনি বলেন, অতীতে ক্ষমতার বাইরে থেকে বিএনপি যেভাবে সুশাসন ও গণতন্ত্রের জন্য রাজপথে লড়াই করেছে, এখন ক্ষমতাসীন হিসেবে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা একইভাবে সুশাসন নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।
আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনটির মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলমের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল এবং যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন