শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাসুদুর রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ ঘোষণা দেন। পরে সংবাদ সম্মেলনেও তিনি একই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান অভিযোগ করেন, সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট, ভোট কারচুপি, অনিয়ম এবং তার দলের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, একাধিক কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, কয়েকটি কেন্দ্রে জাল ভোটদাতাদের হাতেনাতে আটক করে কর্তৃপক্ষের কাছে সোপর্দ করা হলেও পরে আবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কোথাও ব্যালটে প্রকাশ্যে সিল মারা, এজেন্টদের মারধর, গালিগালাজ করে বের করে দেওয়া এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের দিয়ে ভোট দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব ঘটনায় তার দলের কয়েকজন কর্মী ও এজেন্ট আহত হয়েছেন বলেও জানান।
তবে প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, নির্বাচন ঘিরে ৩২টি মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মাঠে কাজ করছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পাঁচজন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ছয়জন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনও জানান, নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময় পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে এবং তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থায় পুরো এলাকা ঢেকে রাখা হয়েছে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপি প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাসুদুর রহমান এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মার্কসবাদীর প্রার্থী মিজানুর রহমান। সকালেই দুই প্রধান প্রার্থী নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোট দেন।
দুই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত শেরপুর-৩ আসনে মোট ১২৮টি ভোটকেন্দ্রের ৭৫১টি ভোটকক্ষে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটার রয়েছেন। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাচন পর্যবেক্ষক, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুজনিত কারণে এ আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন