ভারতের বিরুদ্ধে সীমান্ত হত্যা ও পুশইন নিয়ে বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘকে কেন অভিযোগ বা অবহিত করছে না-সে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনটি ভারত সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে পুশইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবিতে আয়োজন করা হয়।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকার কি কানে তুলো গুঁজে রেখেছে, নাকি ভাসুরের নাম নিতে ভয় পায়। সীমান্ত ইস্যুতে সরকার অভিযোগ করলে কার বিরুদ্ধে করবে-এখানেই নাম ধরতে ভয়। তার দাবি, জাতিসংঘের মানবাধিকার আইন অনুযায়ী পুশইন বেআইনি কাজ।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগ করলেই ক্ষমতায় আসা নিয়ে যেসব বোঝাপড়ার কথা রয়েছে, সেখানে সম্পর্কে ছেদ ঘটতে পারে। এ কারণেই সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত আজ অরক্ষিত। সীমান্ত হত্যা দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও বর্তমান পরিস্থিতি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি জানান, বিজিবি ইতোমধ্যে ২৬টি জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। তবে তার অভিযোগ, প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত প্রত্যাশিত আচরণ না করে অন্যায় ও বাড়াবাড়িমূলক আচরণ করছে।
আযাদ বলেন, কোনো ভিনদেশি নাগরিক যদি অন্য কোনো দেশে অবৈধভাবে অবস্থান করে, তাহলে সেই দেশ তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে, গ্রেপ্তার করতে পারে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনের কাছে সোপর্দ করতে পারে। কিন্তু ভারত সে পথে হাঁটছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ফেলানি হত্যার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সীমান্তে প্রতিনিয়ত নানা ঘটনা ঘটছে। সীমান্ত অতিক্রম করে মানুষের ক্ষেত-খামারে হামলার অভিযোগও রয়েছে। সম্প্রতি পুশইনের ঘটনাও ঘটছে। অথচ ভারত বলছে, তাদের অভিধানে নাকি ‘পুশইন’ বলে কিছু নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সীমান্তে অপরাধজনিত কারণে কারও ওপর হামলা বা গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটলেও সেটিকে বর্ডার কিলিং বলা যাবে না- এমন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। দায়িত্বশীল জায়গা থেকে বক্তব্য দেওয়ার সময় মন্ত্রীদের মনে রাখতে হবে, তারা বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার সদস্য।
তিনি বলেন, সীমান্তে কেউ অপরাধ করলেও তা মোকাবিলার আইনি পদ্ধতি আছে। কাউকে সরাসরি গুলি করে হত্যার বিধান নেই। ভয় দেখানোর জন্য ফাঁকা গুলি করা যেতে পারে, কিন্তু প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে হত্যা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতিও চরম আঘাত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আযাদ আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো মূল্যে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা আপসহীন থাকবেন। পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করার পাশাপাশি এ বিষয়ে সরকারের আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী সীমান্তবর্তী জেলার জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মানবপ্রাচীর তৈরি করতে হবে, যাতে চোরাচালানকারী বা অপরাধী চক্র সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ঢুকতে না পারে।
তিনি বলেন, পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে নতজানু অবস্থান থেকে সরে এসে সরকারকে সঠিক পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান সীমান্ত হত্যা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা তারা প্রত্যাখ্যান করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন