ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন প্রক্রিয়ার মধ্যে দেশটির একাধিক অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলার পর বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দাবি, সবশেষ দফার হামলায় ইরানের অন্তত ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এসব হামলায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার স্থাপনা এবং জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে নিশানা করা হয়েছে।
সেন্টকম আরও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডোরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা চালানোর সক্ষমতা কমানোর লক্ষ্যে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশে অবস্থানরত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ৬০টির বেশি ছোট নৌকায়ও হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর দাবি, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের হামলার জবাবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরান এসব জাহাজে হামলার অভিযোগ অস্বীকার বা নিশ্চিত—কোনোটিই করেনি।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির খবরে বলা হয়েছে, কেশম দ্বীপে আবারও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির খার্গ দ্বীপেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
সেন্টকমের ভাষ্য, ইরান হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে দেশটির বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামোতে হামলা চালানো হচ্ছে। এসব হামলার মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের ক্ষতি করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।
বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগকে বিপজ্জনক ও যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে সেন্টকম। সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের হামলা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন