গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নের পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে একজন নিরপরাধ মানুষের মৃত্যুও পুরো জাতির জন্য বেদনাদায়ক। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের নির্ভুল ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি না হওয়া দুঃখজনক।
বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় কিছু অসংগতি থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকাই নেই। অথচ বিভিন্ন সময় শহীদের সংখ্যা লাখের হিসাবে উল্লেখ করা হলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে সেই তথ্য নথিভুক্ত করা হয়নি।
এ কাজকে সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, বিভিন্ন সরকার নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের অংশীদার দাবি করলেও শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পন্ন করেনি। তালিকা তৈরি হলে শহীদ পরিবারগুলো মর্যাদা পাবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারবে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ইতিহাসের মতো ২০২৪ সালের আন্দোলনের ইতিহাসও যেন হারিয়ে না যায়। এ জন্য সরকারি উদ্যোগে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ ও ইতিহাস রচনার দাবি জানান তিনি।
রাজনীতিবিদদের অবস্থান পরিবর্তনের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের পরিবর্তনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা যেসব বক্তব্য ও অঙ্গীকার করেছিলেন, ৫ আগস্টের পর তা ধীরে ধীরে বদলে যেতে শুরু করে। তার দাবি, ১২ ফেব্রুয়ারির পর এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়েছে এবং অনেকে আগের অঙ্গীকার ভুলে বিপরীত বয়ান দাঁড় করাচ্ছেন।
গণভোটের ফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে জনগণের অভিপ্রায়ই সর্বোচ্চ মর্যাদা পাওয়ার কথা। গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ অংশ নিয়ে যে রায় দিয়েছেন, সরকারি দলকে তা মেনে নিতে হবে।
হত্যা, গুম, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় স্থবিরতা এসেছে বলেও অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তার ভাষ্য, আগের সরকারের সময়ে বিচার কার্যক্রমে যে গতি দেখা গিয়েছিল, বর্তমানে সেটিও আর দৃশ্যমান নয়।
জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে তাদের দাবির পর প্রধানমন্ত্রী ৫ আগস্ট জাদুঘরটি উদ্বোধনের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু ৪ আগস্ট পর্যন্ত দৃশ্যমান প্রস্তুতি, আমন্ত্রণ বা আনুষ্ঠানিক কোনো কার্যক্রম তাদের নজরে আসেনি।
জুলাইয়ের স্মৃতি মুছে ফেলার কোনো চেষ্টা চলছে কি না, এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে।
জাতীয় স্বার্থে জীবন উৎসর্গের মানসিকতা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বয়স নির্বিশেষে সবাইকে এ ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থ বা ভয়ের কারণে জনগণের অধিকার থেকে সরে যাওয়া যাবে না।
বিভিন্ন প্রলোভনের মাধ্যমে তাদের অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তবে জনগণের দেওয়া রায়ের বাইরে তাদের আলাদা কোনো অবস্থান নেই এবং সেই রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না বলে জানান তিনি।
দেশের বৃহত্তর স্বার্থে যেকোনো জাতীয় বিষয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ঐক্যের নামে জনগণের কোনো অধিকার বিসর্জন দেওয়া যাবে না। কোনো ধরনের আধিপত্যের কাছেও মাথা নত করা হবে না।
নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, প্রয়োজনে কারাগার, ‘আয়নাঘর’ কিংবা মৃত্যুর ঝুঁকি মোকাবিলা করেও তারা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন