আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই জাতিগত বাঙালি মুসলমানদের বাংলাদেশ সীমান্তে ‘পুশব্যাক’ বা জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
সংস্থাটির দাবি, পশ্চিমবঙ্গের এক শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তি দায়িত্ব গ্রহণের পর এ ধরনের কার্যক্রম বেড়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে পাঠানো হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ একাধিকবার বিভিন্ন ব্যক্তিকে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করেছে। কয়েকটি ঘটনায় পরিবারগুলো দীর্ঘ সময় সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
বিশেষ করে পঞ্চগড় সীমান্তের একটি ঘটনায় প্রায় ৭৫ ঘণ্টা ধরে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কথিত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়ায় অনেকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। আইনি সহায়তা বা যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই বহিষ্কারের পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগও করেছে সংস্থাটি।
এইচআরডব্লিউর দাবি, বৈধ পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও কিছু ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়া এ ধরনের বহিষ্কার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থি বলে মনে করে সংস্থাটি।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশের প্রতি এ ধরনের ‘পুশব্যাক’ কার্যক্রম বন্ধ এবং সীমান্তে আটকে পড়া মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
সীমান্তে মানুষের পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে মানবাধিকার সংগঠনগুলো মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন