যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। সোমবার সন্ধ্যায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের লালডোবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
এর আগে সোমবার সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে লিমনের মরদেহ বহনকারী ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় বিমানবন্দরে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে লিমনের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের লালডোবা গ্রামে নেওয়া হয়। লিমন ওই এলাকার জহুরুল ইসলামের ছেলে।
লিমনের চাচা জিয়াউল হক জানান, উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন লিমন। সেখানে তিনি নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তার মৃত্যুতে পরিবারে শোকের মাতম চলছে। বিকেলের মধ্যে মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বাদ মাগরিব জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।
লিমন ২০১৪ সালে গাজীপুরের মাওনা মডেল হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০১৬ সালে বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পিএইচডি করতে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভর্তি হন।
গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। পরদিন তাদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে নিহত আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আগামী ৬ মে ফ্লোরিডার ট্যাম্পায় বৃষ্টির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন