জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া যেসব নারী পরবর্তীতে রাজনীতির অঙ্গন থেকে হারিয়ে গেছেন, তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির উদ্যোগে ‘জাতীয় নারীশক্তি’র আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করা হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি বড় স্টেকহোল্ডার ছিল নারীরা। তাই আন্দোলনের পর যেসব নারী কণ্ঠস্বর হারিয়ে গেছে, তাদের সামনে নিয়ে আসা আমাদের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনের পর সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে তা হলো—আন্দোলনের সেই নারীরা এখন কোথায়? যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তাদের অনেককেই পরবর্তীতে রাজনীতির মাঠে দেখা যায়নি।”
তার মতে, সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা বাস্তবতার কারণে অনেক নারী সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত থাকতে পারেননি। তবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জুলাই পদযাত্রায় গিয়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারীদের সঙ্গে আবারও যোগাযোগ হয়েছে বলে জানান তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আন্দোলনের পর থেকে নারীদের লক্ষ্য করে অনলাইন ও সাইবার বুলিংয়ের প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হতে চাওয়া নারীরা নানা ধরনের মানসিক চাপের মুখে পড়ছেন। এর ফলে ছাত্র আন্দোলনের অনেক নারী রাজনীতি থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় বা রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। এ ধরনের ঘটনা বন্ধে সরকারকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দল-মত নির্বিশেষে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। বিচারহীনতার সংস্কৃতিই সমাজে সহিংসতা বাড়িয়ে দেয়।
অনুষ্ঠানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেত্রী নুসরাত, ঝুমা, জাইমা ও মনিরা শারমিন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে ‘জাতীয় নারীশক্তি’র আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেন নাহিদ ইসলাম। এ সময় সংগঠনের মুখ্য সংগঠক হিসেবে নুসরাত তাবাসসুম, সদস্য সচিব হিসেবে ডা. মাহমুদ আলম মিতু এবং আহ্বায়ক হিসেবে মনিরা শারমিনের নাম ঘোষণা করা হয়।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন