জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদে অভিযোগ করেছেন, দেশের ইতিহাসে বারবার জনগণের ভোটাধিকার হরণ ও হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তার মূল লক্ষ্যই হলো , দেশে যেন আর কখনও ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে না পারে।”
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সংসদে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ শীর্ষক বিষয়ে নির্ধারিত আলোচনার সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র যেখানে রাজতন্ত্র থাকে না, সেখানে বংশপরম্পরায় শাসনের ব্যবস্থা থাকে না। জনগণের ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠিত হয়, কিন্তু অতীতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়া সত্ত্বেও বারবার ভোটের অধিকার খর্ব করা হয়েছে এবং এমনকি হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।"
তিনি দেশের প্রথম নির্বাচিত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, "বহুদলীয় গণতন্ত্রের কারণে যারা সুযোগ পেয়েছিলেন, তারাই তা হত্যা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিলেন।" তিনি আরও বলেন, "২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে ডামি ও প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করা হয়েছে।"
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এসব অপকর্মের পরিণতি হিসেবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তরুণ ছাত্রসমাজের দাবানল জ্বলে ওঠে, যা ৫ আগস্ট পরিণতি লাভ করে। এর ফলে দেশের ক্যালেন্ডারে ৩৬ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।"
তিনি বলেন, "এত রক্তের বিনিময়ে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা হলো—ফ্যাসিবাদ যেন আর ফিরে না আসে। একটি ন্যায্যতার ভিত্তিতে, ন্যায়বিচারের ওপরে এমন একটি দেশ কায়েম হবে, যেখানে নাগরিক হিসেবে সবাই সমান অধিকার পাবে।"
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন