বিশ্বের প্রভাবশালী তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক ও ওপেক প্লাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আবুধাবির এই আকস্মিক সিদ্ধান্তকে জোটের অঘোষিত নেতা সৌদি আরবের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও তেলের বাজারে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেই আমিরাত এমন সিদ্ধান্ত নিল। এর ফলে দীর্ঘদিনের ঐক্যবদ্ধ ওপেক জোটের শক্তি কমে যেতে পারে এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজন আরও স্পষ্ট হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, আমিরাতের এই সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হতে পারে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিলেন, ওপেকভুক্ত দেশগুলো কৃত্রিমভাবে তেলের উৎপাদন কমিয়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে রাখছে।
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখলেও তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো জ্বালানির দাম বাড়িয়ে বৈশ্বিক পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে। আমিরাতের জোটত্যাগ ওপেকের ভেতরে বিভাজন তৈরি করে ওয়াশিংটনের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে ইরান যুদ্ধের সময় সহযোগী আরব দেশগুলোর ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ কাজ করেছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আবুধাবি। আমিরাতের অভিযোগ, ইরানের হামলার মুখে প্রতিবেশী আরব দেশগুলো তাদের রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখেনি।
এক সম্মেলনে আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাস আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সমালোচনা করে বলেন, লজিস্টিক সহায়তায় একে অপরকে সাহায্য করলেও রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর অবস্থান এখন ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল পর্যায়ে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওপেক প্লাস থেকে বেরিয়ে গেলে আমিরাত নিজেদের তেল উৎপাদন ও মূল্যনীতি স্বাধীনভাবে নির্ধারণ করতে পারবে। এতে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন তেলবাজার নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
তবে যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার এই সময়ে তেলের বাজারে সমন্বয় দুর্বল হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, আমিরাতের পথ অনুসরণ করে আরও কোনো দেশ জোট ছাড়ে কি না এবং যুক্তরাষ্ট্র এই পরিস্থিতিকে জ্বালানি কূটনীতিতে কতটা কাজে লাগায়।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন