ছলচাতুরী করে সংস্কারকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে একই স্থানে ১১ দলীয় ঐক্যের চলমান আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণে লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করাই সরকারের দায়িত্ব। সংবিধান সংশোধন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। কিন্তু গণভোটের রায় পাশ কাটিয়ে নতুন করে কমিটি গঠন বা অন্য প্রক্রিয়ায় যাওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, মানুষ সংস্কারের পক্ষেই ভোট দিয়েছে। তাই সংস্কারকে ছলচাতুরীর মাধ্যমে অন্যদিকে ডাইভার্ট করার চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না।
হামিদুর রহমান আযাদ অভিযোগ করেন, সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে শুরুতেই জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করেছে। তার দাবি, ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অবজ্ঞা করে সরকার সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি। এখন সংসদে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যা তারা প্রত্যাখ্যান করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রায় আড়াই মাসব্যাপী নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। হামিদুর রহমান আযাদ জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ১৬ মে রাজশাহীতে সমাবেশের মধ্য দিয়ে ১১ দলের বিভাগীয় কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর ১৩ জুন চট্টগ্রাম, ২০ জুন খুলনা, ২৭ জুন ময়মনসিংহ, ১১ জুলাই রংপুর, ১৮ জুলাই বরিশাল এবং ২৫ জুলাই সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশ হবে।
তিনি জানান, বিভাগীয় সমাবেশের পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে পেশাজীবী ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে। সব দল নিজেদের মতো করে গোলটেবিল বৈঠকও করবে। সর্বশেষ অক্টোবরে রাজধানী ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে আন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার উদ্যোগ না নিলে সংসদে সমাধান কঠিন হয়ে পড়বে। সরকার যেহেতু বিরোধী দলকে রাজপথে ঠেলে দিচ্ছে, তাই ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথেই থাকবে।
সংবাদ সম্মেলন ও বৈঠকে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা ও এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজীসহ জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন