এশিয়ার বৃহত্তম বার হিসেবে পরিচিত ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। বুধ ও বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে।
নির্বাচনের প্রথম দিনে ভোট দেন ২ হাজার ৭৫৯ জন আইনজীবী। দ্বিতীয় দিনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ৪ হাজার ৩১০ জন। সব মিলিয়ে দুই দিনে ভোট দিয়েছেন ৭ হাজার ৬৯ জন আইনজীবী, যা মোট ভোটারের প্রায় ৩২.৫ শতাংশ।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নজরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন জানান, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ২১ হাজার ৭৩১ জন। তারা ২৩টি পদে প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।
এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থিত আইনজীবীরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল বা নীল প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদ সবুজ প্যানেল থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।
দুই প্যানেলে ২৩ জন করে মোট ৪৬ জন প্রার্থী রয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরও ৯ জন।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবারই প্রথম আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্যানেলের অনুপস্থিতিতে জামায়াত-সমর্থিত আইনজীবীরা পূর্ণ প্যানেলে ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল কালাম খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপরদিকে জামায়াত-এনসিপি সমর্থিত সবুজ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এস এম কামাল উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবু বাক্কার সিদ্দিক লড়ছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে সভাপতি পদে মোহাম্মদ ইউনুস আলী বিশ্বাস এবং সাধারণ সম্পাদক পদে বলাই চন্দ্র দেব ও মোহাম্মদ শহিদুল্লাহসহ কয়েকজন বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অনুষ্ঠিত ঢাকা আইনজীবী সমিতির এই নির্বাচনকে ঘিরে আইনজীবী অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। ভোটগ্রহণ শেষে এখন ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রার্থী ও সমর্থকেরা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন