পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার শুরু থেকেই নজর কাড়ছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় আসন। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী শওকত মোল্লার সঙ্গে আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকীর লড়াই এখন চরম উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে।
পঞ্চম রাউন্ডে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার ভোটে এগিয়ে থাকার পর ষষ্ঠ রাউন্ডেও লিড ধরে রেখেছেন নওশাদ। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১ হাজার ৯২৭ ভোটের ব্যবধানে তৃণমূল প্রার্থীকে পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছেন।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভাঙড় আসন থেকে ২৬ হাজার ১৫১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন নওশাদ সিদ্দিকী। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস লিড নিয়েছিল। ফলে এবারের নির্বাচন নওশাদের জন্য নিজের দুর্গ ধরে রাখার লড়াই, আর শওকত মোল্লার জন্য হারানো জমি পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ষষ্ঠ রাউন্ড শেষে নওশাদের এগিয়ে থাকা আইএসএফ শিবিরে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। অন্যদিকে তৃণমূলের জন্য ভাঙড়ের ফলাফল এখন বড় রাজনৈতিক পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং দুই ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের সংঘাত হিসেবেও দেখা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বাংলা অস্মিতা’ এবং বিজেপির ‘হিন্দুত্ববাদী’ রাজনীতির মাঝখানে ভাঙড়ের মতো সংবেদনশীল আসনে নওশাদ ও শওকতের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।
দুই দফায় অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে রাজ্যে রেকর্ড ৯২.৯৩ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানা গেছে, যা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভোটের আগে থেকেই রাজ্যজুড়ে আলোচনায় ছিল ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা এসআইআর ইস্যু। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯১ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যার বড় অংশ সংখ্যালঘু ও মতুয়া সম্প্রদায়ের বলে দাবি করা হচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেস এই প্রক্রিয়াকে ‘আসল ভোটার মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র’ বলে অভিযোগ করেছে। অন্যদিকে বিজেপি একে ‘অনুপ্রবেশকারী ছাঁটাই’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। ভাঙড়ের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় এই ভোটার ছাঁটাইয়ের প্রভাব ফলাফলে কতটা পড়ে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন