পবিত্র ঈদুল আযহার আনন্দ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে শিকড়ের টানে বাড়ি ফিরছেন সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর ক্যাম্পাসজুড়ে এখন যেন বিদায়ের আমেজ বিরাজ করছে।
ক্লাস, পরীক্ষা ও অ্যাসাইনমেন্টের ব্যস্ততা শেষে ২৪ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত টানা ১২ দিনের ঈদুল আযহার ছুটিতে কেউ ছুটছেন উত্তরবঙ্গের সবুজ প্রান্তরে, কেউবা দক্ষিণাঞ্চলের নদীমাতৃক জনপদে। প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বইছে স্বস্তি ও আনন্দের অনুভূতি।
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রাঈচা তাসমিন নিজের জেলা মাগুরায় ফেরার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ইট-পাথরের ধুলোবালিমাখা শহরে বাবা-মা ও বোনদের থেকে দূরে এসে এখন বুঝতে পারছি, একসময় বিরক্ত লাগা সেই জায়গাটাতেই ফিরে যেতে কতটা অপেক্ষা কাজ করে। অবশেষে ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি ফেরা সত্যিই এক অন্যরকম অনুভূতি। রাস্তার যানজট, স্টেশনের ভিড়—সবকিছু উপেক্ষা করেও মন আনন্দে ভরে উঠছে। বহুদিন পর দূষিত শহর ছেড়ে প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারবো। ক্লান্তির অবসান যেন এখানেই।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আল আমিন সিয়াম বলেন, 'ঈদে বাড়ি ফেরা শুধু একটি যাত্রা নয়, এটি গভীর আবেগের নাম। শহরের ব্যস্ততার মাঝেও মন পড়ে থাকে গ্রামের চির চেনা আঙিনায়। মা-বাবা, ভাই-বোন আর শৈশবের স্মৃতিগুলোর কাছেই যেন ফিরে যাওয়া হয় ঈদের সময়।'
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাইদ বলেন, 'ঈদ মানেই আমার কাছে শুধু একটি উৎসব নয়, বরং শিকড়ে ফিরে যাওয়ার এক গভীর অনুভূতি। ঢাকার ব্যস্ততা, ক্লাসের চাপ আর শহুরে জীবনের কোলাহলের মাঝেও মন পড়ে থাকে প্রিয় জেলা লক্ষ্মীপুরে। তিতুমীর কলেজে পড়াশোনা করতে এসে বুঝেছি, বাড়ি থেকে দূরে থাকলে 'বাড়ি' শব্দটার মূল্য আরও গভীরভাবে অনুভব করা যায়।'
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সিহাব হোসেন বলেন, 'ঈদ মুসলিম উম্মাহর মিলনমেলার অন্যতম উপলক্ষ। পরিবারের সদস্যরা দূরে থাকলেও ঈদের সময় আবার একত্রিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি দীর্ঘদিন পর পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার বিশেষ সময়।'
দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল মোমেন বলেন, 'হলের ব্যস্ত জীবন আর পড়াশোনার চাপের মাঝেও ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার অনুভূতি সত্যিই অন্যরকম। পরিবারের সান্নিধ্য নতুন করে বাঁচার শক্তি দেয়।'
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, ঈদ শুধু উৎসব নয়, এটি পরিবার, শিকড় ও আপন মানুষের কাছে ফিরে যাওয়ার উপলক্ষ। সকলেই যেন নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে আনন্দমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারেন—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তারা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন