বকেয়া বেতনসহ বিভিন্ন পাওনা পরিশোধের দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন বন্ধ হয়ে যাওয়া অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা।
রোববার সকালে নগরীর রুপাতলী এলাকায় কারখানার প্রধান ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি গ্যাস টার্বাইন এলাকা হয়ে রুপাতলী গোলচত্বর সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সকাল ১১টার দিকে শ্রমিক-কর্মচারীরা রুপাতলী গোলচত্বর অবরোধ করে সমাবেশ করেন। এতে প্রায় তিন শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী অংশ নেন।
তারা দুই মাসের বকেয়া মজুরি, ওভারটাইম, নাইট বিল ও সার্ভিস বেনিফিট দ্রুত পরিশোধের দাবি জানান।
কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম সর্দারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বাসদের বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী, বাসদ নেতা গাজী মো. বেল্লাল হোসেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের দপ্তর সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম এবং অলিম্পিক সিমেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. পাভেল হাওলাদারসহ শ্রমিক নেতারা।
বক্তারা বলেন, কারখানা বন্ধের নোটিশের পর থেকে শ্রমিকরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বকেয়া পাওনা না পাওয়ায় অনেক শ্রমিকের পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে।
আগামী ৩০ জুন জেলা প্রশাসকের সঙ্গে শ্রমিক প্রতিনিধিদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে দাবি পূরণের সিদ্ধান্ত না এলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দেন শ্রমিক নেতারা।
ডা. মনীষা চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না করেই কারখানার মালিক বিদেশে অবস্থান করছেন। দীর্ঘদিন শ্রম দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা শ্রমিকদের দ্রুত পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
গত ১১ জুন রাতে দেওয়া এক নোটিশে ১৩ জুন থেকে অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। নোটিশে ক্রমাগত ব্যবসায়িক লোকসান, কাঁচামাল এবং ডলার ও এলসি সংকটকে কারখানা বন্ধের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
শ্রমিক নেতাদের দাবি, কারখানাটির মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে। মালিকানা পরিবর্তন হলে নতুন মালিকের অধীনে প্রায় ৩০০ শ্রমিককে পুনরায় কাজে নিয়োগ এবং তাদের পাওনা পরিশোধের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন