ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের আদলে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) প্রধান ও নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে সংযত হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বিধানসভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। তবে এতে বিচলিত নন বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবীর।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি রেজিনগর ও শক্তিপুরের দুটি কর্মসূচিতে হুমায়ুন কবীরের দেওয়া বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী।
তার অভিযোগ, নিজের ছেড়ে দেওয়া রেজিনগর আসনের উপনির্বাচনে ছেলেকে প্রার্থী করে জয়ী করতে মুসলিম ভোট ঐক্যবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে হুমায়ুন এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন।
বিধানসভায় হুমায়ুনের দুটি বক্তব্য পড়ে শোনানোর পর শুভেন্দু বলেন, ‘দুটি ঘটনার পরে মনে হয়েছে, এনাফ ইজ এনাফ। সময় এসেছে এই ধরনের লোককে সবক শেখানোর।’
হুমায়ুনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাকে পরিষ্কার বলছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন মুখ্যমন্ত্রী নন। আপনি দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে যা খুশি করেছেন, বলেছেন।’
হুমায়ুনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘আমি আপনাকে বলে গেলাম, দুটি এফআইআর শুরু করেছি।’
তিনি জানান, ২৬ জুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেজিনগর থানায় দুটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৫২, ১৯৬, ১৯৭, ২২৪, ২৯৯, ৩৫১(২), ৩৫২ ও ৩৫৩ ধারা যুক্ত করা হয়েছে। শক্তিপুর থানায়ও আরেকটি মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
শুভেন্দুর দাবি, হুমায়ুন যে ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছেন, সেই ক্ষমতা তাকে কেউ দেয়নি। তিনি বলেন, ‘আপনাদের নিশ্চিত করছি, এত বড় ক্ষমতা তাকে কেউ দেয়নি।’
হুমায়ুনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, ভরতপুর, রেজিনগর ও নওদার নির্বাচিত পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের নিজের দলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি, কিন্তু সফল হননি।
তিনি আরও বলেন, রেজিনগর আসনের উপনির্বাচনে নিজের ছেলেকে জয়ী করানোর উদ্দেশ্যে হুমায়ুন সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের চেষ্টা করছেন। ওই আসনে ৭২ শতাংশ মুসলিম ভোটার রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন শুভেন্দু।
হুমায়ুনকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘কান খুলে শুনে রাখুন, আপনাকে এভাবে হুমকি, বেপরোয়া ও লাগামছাড়া কথা বলতে দেব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংযত হোন, সতর্ক হোন। এ ধরনের কথা প্রত্যাহার করুন। ভবিষ্যতে এ ধরনের কথা বলার আগে ২৫ বার ভাববেন।’
হুমায়ুনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘যারা তাকে ডেকেছিল, তাদের আগে ধরা হবে। এরপর তার কাছে যাওয়া হবে। এ সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে।’
বিধানসভায় হুমায়ুন কবীরের ২৬ জুন রেজিনগরের একটি সভায় দেওয়া বক্তব্যও পড়ে শোনান শুভেন্দু। ওই বক্তব্যে হুমায়ুন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সংঘাতমূলক ও হুমকিমূলক মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়।
শুভেন্দুর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় হুমায়ুন কবীর বলেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য করেননি। যারা সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দিয়ে এলাকায় অশান্তি ও অত্যাচার করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেই কথা বলেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
হুমায়ুন বলেন, ‘তাতে যদি আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়, হবে। আমি তো এই লোকগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করেই নতুন দল তৈরি করেছি এবং নির্বাচনে জিতেছি।’
সূত্র: আনন্দবাজার
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন