জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৫ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সংগঠনটির অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রস্তাব জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অতীতে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর পর যে হারে বাসভাড়া কমানো হয়েছিল, এবারও একই অনুপাতে ভাড়া বাড়ানো যেতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে সংগঠনটির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন ও গণমাধ্যমকে এড়িয়ে বিআরটিএ সদর দপ্তরে গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে গোপন বৈঠকের খবর পাওয়া গেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে পুঁজি করে বাস মালিক সমিতির সরকারসমর্থিত প্রভাবশালী নেতারা অতীতের ধারাবাহিকতায় আবারও একতরফাভাবে ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। রাতের আঁধারে এ ধরনের বৈঠক সেই চেষ্টারই ইঙ্গিত বহন করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, তিন দফায় জ্বালানি তেলের দাম ৩ টাকা করে কমানোর পর বাসভাড়া ৩ পয়সা হারে কমানো হয়েছিল। আবার ২ টাকা কমানোর পর ভাড়া কমানো হয় ২ পয়সা। সে হিসাবে এবার প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বৃদ্ধির ফলে বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৫ পয়সা বাড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, আমলাতন্ত্রকে প্রভাবিত করে অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধি করা হলে সরকারের জনপ্রিয়তা ক্ষুণ্ন হবে এবং জনরোষ সৃষ্টি হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে বাস মালিক সমিতিকে একচেটিয়া সুবিধা দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব।
এর আগে একই দিন দুপুরে আরেক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণপরিবহনের ভাড়া নির্ধারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতা-ভোক্তা অধিকার আইন অনুসরণের দাবি জানায় সংগঠনটি। পাশাপাশি যাত্রী ও ভোক্তা প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে বাস ও লঞ্চভাড়া নির্ধারণ কমিটি পুনর্গঠনের আহ্বান জানানো হয়।
পরে বিকেলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং নৌপরিবহন মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেয় যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সেখানে বাস ও লঞ্চ মালিক সমিতি এবং শ্রমিক ফেডারেশনের পাশাপাশি সংখ্যানুপাতে যাত্রী ও ভোক্তা প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করে ভাড়া নির্ধারণ কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক ও নৌ যোগাযোগ খাতে বেসরকারি বাস ও লঞ্চ মালিক এবং শ্রমিক সংগঠনের প্রভাবশালী নেতাদের নিয়ে ভাড়া, সুযোগ-সুবিধা, নীতি ও কৌশল নির্ধারণের কারণে এ খাতে যাত্রী দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন