মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ সংসদে পাস না হওয়ার প্রেক্ষিতে সংসদে উপস্থাপিত ভুল তথ্যের জবাব, অধ্যাদেশগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের প্রকৃত আপত্তি চিহ্নিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ আইনের গুণগত মান বিচারের প্রস্তাবনা বিষয়ে খোলা চিঠি লিখেছেন সদ্য বিদায়ী পাঁচজন মানবাধিকার কমিশনার।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) নিজের ফেসবুক পোস্টে নাবিলা ইদ্রিস জানান, সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো সংসদে পাস না হওয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তিরা অনিশ্চয়তায় ভুগছেন এবং বারবার প্রশ্ন করছেন, “এখন আমাদের কী হবে?” ভুক্তভোগীদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই খোলা চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নাবিলা ইদ্রিসের ভাষ্য, খোলা চিঠিটি তিনটি মূল অংশে সাজানো হয়েছে। এগুলো হলো- সংসদে উপস্থাপিত ভুল তথ্যের জবাব, অধ্যাদেশগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের প্রকৃত আপত্তি চিহ্নিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ আইন প্রণয়নে গুণগত মান নির্ধারণের প্রস্তাবনা।
চিঠিতে বলা হয়েছে, অধ্যাদেশ বাতিলের পক্ষে সরকার যেসব যুক্তি দিয়েছে, তার মধ্যে বেশ কিছু তথ্য বিভ্রান্তিকর। উদাহরণ হিসেবে সেখানে বলা হয়, গুমের শাস্তি মাত্র ১০ বছর, তদন্তের কোনো সময়সীমা নেই, জরিমানার বিধান নেই এবং বিদ্যমান আইনই যথেষ্ট- এ ধরনের দাবি সঠিক নয়।
একই সঙ্গে খোলা চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে সরকার নতুন আইন আনলে ভুক্তভোগীদের খেয়াল রাখতে হবে- সরকারের আপত্তিগুলো মেনে আইনকে দুর্বল করা হচ্ছে, নাকি সেগুলো প্রত্যাখ্যান করে আরও শক্তিশালী আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।
খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি (অব.) মইনুল ইসলাম চৌধুরী এবং সদস্য মো. নূর খান লিটন, ইলিরা দেওয়ান, অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম ও ড. নাবিলা ইদ্রিস।
প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় কমিশনের সদস্যরা পদত্যাগ করেন। পরে তাঁরা এই খোলা চিঠি দেন। বিদায়ী কমিশনের সদস্য নূর খান বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি পদত্যাগ করতে বলা হয়নি; তবে একধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। তার ভাষ্য, যেহেতু আগের অধ্যাদেশের ভিত্তিতেই তাঁদের নিয়োগ হয়েছিল, সেটি বহাল না থাকায় পদত্যাগ করাকেই সমীচীন মনে করেছেন তারা।
এদিকে কমিশনের সচিব কুদরত-এ-ইলাহীও জানিয়েছেন, অধ্যাদেশটি বাতিল হওয়ায় আগের কমিশন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আর বহাল নেই।
গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ সালে প্রণীত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন’ আবার চালুর পথ তৈরি হয়।
খোলা চিঠির শুরুতে কমিশনাররা বলেন, তাঁরা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিস্বার্থে নয়, বরং ভুক্তভোগীদের প্রতি কর্তব্যবোধ থেকেই এই অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন