সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে কর্মকর্তাদের আইন মন্ত্রণালয়ে নিযুক্ত করার প্রক্রিয়াকে আদালত অবমাননা বলে মন্তব্য করেছেন এ-সংক্রান্ত রিটকারী আইনজীবী শিশির মনির। তিনি বলেছেন, আগামী ৭ জুনের মধ্যে সরকার আপিল না করে সচিবালয় বাতিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
বুধবার (২০ মে) সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শিশির মনির বলেন, ‘আমি মনে করি, তারা যে কাজ করেছে, এটি আদালত অবমাননা। এই সচিবালয় স্ট্রাকচারকে তারা ডিজম্যান্টল করেছেন। এই সচিবালয়ে যাদের সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তাদেরসহ ১৫ কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে নিযুক্ত করা হয়েছে।’
আদালতের ইচ্ছার প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা দেখানো হয়নি অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের আচরণ সিরিয়াসলি কনটেম্পটুয়াস। আমরা কনটেম্পট নোটিশও দিয়েছি। আমরা আগামীকালই একটি কনটেম্পট পিটিশন দায়ের করব।’
তিনি আরও বলেন, হাইকোর্ট বিভাগ ৭ জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করার কথা বলেছেন। কারণ গত ৭ এপ্রিল রায় প্রকাশ হয়েছে এবং আপিল দায়েরের সময়সীমা ৬০ দিন। এই সময়সীমা ৭ জুন শেষ হবে। এর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল না করলে হাইকোর্ট বিভাগে নতুন আইনকে চ্যালেঞ্জ করে করা রিট পিটিশন শুনানির জন্য গ্রহণ করা হবে।
এর আগে মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বিলুপ্ত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে কর্মরত জুডিশিয়াল সার্ভিসের ১৫ কর্মকর্তা ও বিচারককে মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেওয়া হয়। বুধবার সকালে বিচারপতি আহমেদ সোহেলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রজ্ঞাপনের বিষয়টি নজরে আনা হয়েছে বলেও জানান শিশির মনির।
তিনি বলেন, আদালত বিস্ময় প্রকাশ করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেছেন, ‘আমাদের সামনে আপনারা সেদিন কোর্টের ডিজায়ার গ্রহণ করেছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল নিজে হাজির ছিলেন। তাহলে এসব কাজ কেন করছেন?’
অ্যাটর্নি জেনারেলের মৌখিক প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে শিশির মনির বলেন, আদালত বলেছিলেন, এটি তাদের ইচ্ছা-এই সময়ের মধ্যে সচিবালয় যেন কোনোভাবে বিলুপ্ত করা না হয়। কিন্তু আদালতের সেই ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে বিচার বিভাগের সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি করতে চাইছে দাবি করে শিশির মনির বলেন, ‘আইনে কোনো ত্রুটি থাকলে তা ধ্বংস না করে সবাই মিলে সংশোধন বা ফাইন-টিউনিং করা যেত। কিন্তু আপনারা তো পেছন দিকে হাঁটছেন।’
দীর্ঘ আইনি লড়াই ও মাসদার হোসেন মামলার রায়ের ধারাবাহিকতায় গত বছরের ৩০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি করে। এরপর ১১ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ এটি উদ্বোধন করেন।
পরবর্তীতে বিএনপি সরকার বিচারক নিয়োগ ও সচিবালয়-সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো রহিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। গত ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ পাস হয়। বিল পাসের সময় বিরোধী দলের সদস্যরা এটিকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলে অভিযোগ করলেও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আইন প্রণয়নের চূড়ান্ত ক্ষমতা সংসদের।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন